কাজ না থাকলে ভাত দিবে কে?

৩ ০৩, ২০২৬ ০৮:০৩:৫৯

হাজারিবাগের ট্যানারি কারখানা বন্ধ করা হলে ৩০ হাজার শ্রমিকের পরিবারে নেমে আসবে চরম দুর্ভোগ। এ নিয়ে হতাশায় রয়েছেন শ্রমিকেরা। ট্যানারি কারখানার শ্রমিক সফিকুল ইসলাম বিডি২৪লাইভকে বলেন, কারখানা সাভার নেয়া হলেও সহজেই কাজ শুরু করতে পারবে না, তাহলে বসিয়ে বসিয়ে টাকা দিবে না, যার কারণে অনেকেরই চাকরি থাকবে না। আর কাজ না থাকলে তো কেউ ভাত দিবে না। 

তিনি আরও বলেন, আমি এখানে ১১ বছর থেকে ট্যানারি কারখানায় কাজ করি। তাই আমি এই কাজই ভালো জানি, অন্য কাজ ভালো জানা নাই। যদি আমার চাকরি যায় তাহলে আমার অন্য জায়গায় কি চাকরি হবে। এখোন সব কম্পানি অভিগ্য লোক চায় সে ক্ষেত্রে আমার পরিবার নিয়ে আমার চলা খুবি কষ্ট হবে কারণ এ চাকরী দিয়ে আমার সংসার চলে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বিডি২৪লাইভকে বলেন, আজ ২০ দিন যাবত মালিক ও ম্যানেজার কারখানায় আসেন না। গত মাসের বেতন এখনও পাইনি, আমাদের স্টাফদের হিসাবও নিচ্ছে না, জানিনা গত মাসের ও এমাসের বেতন পাব কি না। আর কারখানা সাভারে গেলে চাকরি কেমনে থাকবে। চাকরি না থাকলে না খেয়ে মরতে হবে, তাছাড়া আর কি করবো। 

&dquote;&dquote;

এ বিষয়ে মালিক পক্ষ বলেন, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব যাতে করে শ্রমিকদের কোন ক্ষতি না হয় এবং তাদের চাকরি যাতে ঠিক থাকে। তবে কারখানা যদি শুরু করতে না পারি সে ক্ষেত্রে তো আর শ্রমিকদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে পারব না, এমনিতেই অনেক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছি।

ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, কারখানাগুলোতে কাজ চলছে। তবে পরিস্থিতি থমথমে। শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। সরকার ও মালিক পক্ষের সমস্যার কারণে শ্রমিকদের এত বড় ক্ষতি করা ঠিক হবে না। কারখানা দ্রুত সাভারে সরিয়ে নিলে অথবা সরকার ত্বরিৎ ব্যবস্থা নিলে এ সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, গাফিলতি থাকলে মালিকদের আছে। ভুল করলে সরকার করছে। তার দায়ভার হাজার হাজার শ্রমিকের উপর কেন পড়বে? আমরা সাফার করব কেন। তারা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে দ্রুত চলে যাক অথবা আলোচনায় বসুক।

১৯৮৬ সালে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর ওপর পরিবেশ দূষণের দায় ওঠে ওই বছরই সরকার ১৭৬ ট্যানারিসহ ৯০৩টি কারখানাকে দূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সরকার ২০০৩ সালে সাভারে চামড়া শিল্পনগর গড়ে তোলার প্রকল্প নেয়, এ প্রকল্পের আওতায় সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা গ্রামে প্রায় ২০০ একর জমিতে গড়ে তোলা চামড়া শিল্পনগরে ১৫৪টি ট্যানারি সরিয়ে নেওয়া হবে। সাভারে এখন পর্যন্ত ৫০টির মত ট্যানারি উৎপাদন শুরু করতে পেরেছে। অবশ্য এ উৎপাদন মানে হলো চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রথম ধাপ ওয়েট ব্লু করা। গুটিকয়েক বাদে বাকি ট্যানারি মালিকেরা সাভারে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের বাকি দুই ধাপ ক্রাস্ট ও ফিনিশড অংশের কাজ এগিয়ে নিতে পারেননি।
 

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: