কাটা হল গাছ বন্ধ হল রাস্তা
নাইমুর রহমান
নাটোর প্রতিনিধি
নাটোর শহরের হরিশপুর এলাকায় সড়ক বিভাগের একটি বিরোধপূর্ন জায়গায় প্রাচীর নির্মান করে একটি পরিবারের চলাচল বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে । এছাড়া তার বিরুদ্ধে সড়কের জায়গা থেকে গাছ কেটে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, প্রয়াত হোমিও ডাক্তার কানাই সরকারের পৈত্রিক জমি অধিগ্রহণ করে সরকার ঢাকা-রাজশাহী বাইপাস সড়ক নির্মাণ করে। পরে বাড়ি সরিয়ে নেয়ার পর অধিগ্রহণকৃত জমির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতেন তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু প্রতিবেশী গনেশ নারায়ন দেব সড়কের বেশ কিছু গাছ কেটে গতকাল শুক্রবার ওই পথ বন্ধ করে প্রাচীর নির্মাণ করলে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যায় কানাই সরকারের।
বিষয়টি পৌর মেয়র সহ সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগে জানালে গণেশ নারায়ন দেব শুক্রবার গভীররাতে কানাই সরকারের বাড়িতে ঢোকার পথে প্রাচীর নির্মান কাজ শেষ করে। শনিবার সকালে পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জলি ও সড়ক বিভাগের কর্মচারি ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পরও কাজ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ রাখা হয়।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ , গণেশ নারায়ন দেবের এক নিকটাত্মীয় অতিরিক্ত সচিবের ক্ষামতার দাপট দেখিয়ে বাড়ির সামনে সড়ক বিভাগের জায়গা থেকে গত কয়েক দিনে ৪টি বড় আমগাছ,৪টি বনজ ইপিলিপি ও ৯ টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে নেয়। প্রতিবেশী কানাই সরকারের পরিবারের সদস্যদের চলাচল পথে সড়ক বিভাগের জায়গায় প্রাচীর নির্মানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে সড়ক বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী রাসেল উল্লাহ খানের নেতৃত্বে স্থানীয় সড়ক বিভাগের তিন সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে হাজির হন। এসময় ওই প্রাচীর নির্মান কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন প্রকৌশলী।
বিরোধপুর্ন স্থানে নির্মানাধীন প্রাচীর ভাঙ্গার কাজ শুরু হওয়ার পর পরই অদৃশ্য শক্তির ইংগিতে আবার তা বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া গাছ কাটার বিষয় সড়ক বিভাগের কাছে জানতে চাইলে তাৎক্ষনিক সন্তোষজনক কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। পরে এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাসেল উল্লাহ খান বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
অপরদিকে পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জানান, গণেশ নারায়ন দেবের পক্ষ থেকে কোন স্থাপনা নির্মানের জন্য পৌরসভার অনুমতির প্রয়োজন মনে করেনি। তিনি তাৎক্ষনিক কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। জমি মাপা না হওয়া পযর্ন্ত কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেন। তিনি বলেন যেহেতু জায়গাটি সড়ক বিভাগের তারাই তদন্ত করে ন্যায় ও আইনসংগতভাবে ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি মনে করেন।
তবে গনেশ দেবের পরিবারের দাবি তাদের জমিতে তারা প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। গণেশের স্ত্রী অর্চনা দেব দাবী করেন,বাড়ির সামনের জায়গার হকদার তারা। তাই বাড়ির সামনে সড়ক বিভাগের জায়গা তারা লিজ নেওয়ার আবেদন করেছেন। তারাই গাছ লাগিয়েছেন এবং তারাই অপসারন করেছেন। তবে কেটে ফেলেননি। গাছগুলো অন্য জায়গায় লাগিয়েছেন। নিজেদের জমিতেই প্রাচীর নির্মান করছেন তারা। সড়ক বিভাগের জায়গায় তারা কোন প্রাচীর নির্মান করেননি। কোন সচিবের দোহাই দিয়ে তারা ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেননা।
অপরদিকে কানাই সরকারের পরিবারের সদস্য জীতেন কুমার সরকার জানান, ইতিপুর্বে হরিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে থাকার সময় চলাচলের পথটি নিয়ে শালিশ বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে জায়গাটি উভয় পক্ষই চলাচলের জন্য অঙ্গিারনামায় স্বাক্ষর করেন। ওই বৈঠকের অঙ্গিকার নামায় চলাচলের পথ হিসেবে জায়গাটির সমান অধিকার থাকবে। বিরোধপুর্ন ওই জায়গায় কেউ কোন ধরনের স্থাপনা নির্মান করতে পারবেনা ।
উভয় পক্ষের মতামতের ভিত্তিত্বে বিরোধপুর্ন জায়গায় স্থাপনা নির্মান করবে। কিন্তু গণেশ নারায়ন দেব ১৯৯৮ সালের ওই সালিশ বৈঠকের সালিশনামা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অদৃশ্য শক্তির বলে রাতারাতি প্রাচীর নির্মান করে তাদের চলাচল পথ বন্ধ করে দিয়েছে তারা। সড়ক বিভাগের ওই জায়গাটি একসময় তাদেরই ছিল। সরকার বাইপাস সড়ক নির্মানের জন্য অধিগ্রহণ করে। এখন গণেশ নারায়ন দেব জায়গাটি তাদের বলে দাবী করছে।
এডিটর ইন চিফঃ আমিরুল ইসলাম
বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ
২৭ সেন্ট্রাল রোড , ধানমন্ডি, ঢাকা - ১২০৫
মোবাইল: ০১৭১৬২০২৪৩৪, ফোনঃ ০২-৯৬৬৯৯৫১
ই-মেইলঃ info@bd24live.com, office.bd24live@gmail.com





পাঠকের মতামত: