১৫৫টি হাঁস খেয়ে ধরা খেল মেছো বাঘ!

৩ ০৩, ২০২৬ ০৮:০৫:৫৪

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: জেলার সদর উপজেলার বর্নি গ্রামের হাঁসের খামারি শাহজাহান মিয়া। প্রতি রাতে তার খামার থেকে হাঁস কমছিল। শাহজাহান ভেবেছিলেন, কোনো শিয়াল হয়তো রাতে এসে হাঁস নিয়ে যাচ্ছে। তাই শিয়ালকে পাকড়াও করতে ফাঁদ পাতেন তিনি। রোববার ভোরে সেই ফাঁদে শিয়ালের বদলে ধরা পড়ল মেছো বাঘ!

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আড়াই ফুট দীর্ঘ ও দুই ফুট উচ্চতার মেছো বাঘটি সারা গায়ে ডোরাকাটা দাগ রয়েছে। মুখমণ্ডল অনেকটা বিড়ালের মতো, গায়ের রং ধূসর। আটকের পর এটি দেখার জন্য উৎসুক লোকজন ভিড় জমায়।

খামারি শাহজাহান ও জেলা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে খামার থেকে প্রতি রাতে কয়েকটি করে হাঁস কমতে থাকে। এ জন্য তিনি খামারের চারদিকে জাল দিয়ে রাখেন। এতেও কোনো কাজ না হওয়ায় শনিবার তিনি লোহার তৈরি ফাঁদসহ একটি খাঁচা খামারের দরজার পাশে রেখে দেন।

রোববার সকাল ছয়টার দিকে দেখেন ওই ফাঁদে মেছো বাঘটি আটকা পড়েছে। খবর পেয়ে জেলা বন বিভাগের লোকজন বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাঘটি উদ্ধার করে শহরের জয়নগর এলাকায় বন বিভাগে নিয়ে যান।

শাহজাহান বলেন, ‘ওই বাঘটি গত ১৫ দিনে আমার খামারের ১৫৫টি হাঁস খেয়েছে। আমি ভেবেছিলাম, শিয়াল বা এ-জাতীয় মাংসাশী কোনো প্রাণী এই হাঁসগুলো খেয়েছে। শিয়াল মারার ফাঁদ বানিয়ে তা রেখে বাঘ ধরা পড়েছে। বন বিভাগের লোকজন বাঘটি নিয়ে গেছেন।’

নেত্রকোনা বন বিভাগের কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা বাঘটি উদ্ধার করে কার্যালয়ে এনেছি। বাঘটি সুস্থ রয়েছে। বনে ছেড়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এটা হস্তান্তর করা হবে।’

জেলা প্রশাসক মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, বনজঙ্গলে হয়তো খাবার না পেয়ে বাঘটি দলছুট হয়ে লোকালয়ে চলে এসেছে। এটি উন্মুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, এর আগে ১১ মার্চ সদর উপজেলার ভদ্রপাড়া গ্রামে এক খামারির পাতা ফাঁদে আরেকটি মেছো বাঘের বাচ্চা ধরা পড়েছিল।

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: